পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের পথে চন্দ্রযান-৩

১ আগষ্ট, ২০২৩ ২৩:০৯  

ভারতের চন্দ্রযান ৩ পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে এবার চাঁদের দিকে দৌড়াচ্ছে। চন্দ্রযান-৩ কে এবার ট্রান্সলুনার অরবিটে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এটি চাঁদে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযানের সফটল্যান্ডিং হবে ২৩ আগস্ট। এমনই পরিকল্পনা দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর।

ভারতের এর আগের মিশন চন্দ্রযান-২ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে চন্দ্রযান-৩ মিশন নিয়ে ভারত খুবই উত্তেজিত। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) চন্দ্রযান-৩ বহনকারী স্পেসক্রাফট সাফল্যের সঙ্গে লঞ্চ করেছে। এটিই ভারতের হেভিয়েস্ট জিএসএলভি। তৈরি হয়েছে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে। ১৪ জুলাই এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিলো।

চাঁদে পাড়ি দেওয়ার আগে তাদের মহাকাশযান ধারণকারী পেলোড ফেয়ারিংকে জিওসিঙ্ক্রোনাস লঞ্চ ভেহিকেল মার্ক থ্রি-র সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলো ইসরো। ভারতের সবচেয়ে ভারী রকেটের সঙ্গে পেলোড ফেয়ারিংয়ের জুড়ে দেওয়ার কাজটি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারেই হয়েছিলো। অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই প্রকল্প নিয়ে ইসরো খুবই আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত।

ইসরো জানিয়েছে, লুনার সারফেসে বা চাঁদের মাটিতে ঘোরার সময়ে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের ভূ-প্রকৃতি ও তার পরিবেশ নিয়ে 'ইন-সিটু কেমিক্যাল অ্যানালিসিস' চালাবে। এটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু-অঞ্চলে ঘোরাফেরা করবে। চন্দ্রযান-৩ -এর মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে যান নামিয়ে চাঁদ-চর্চা শুরু করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেকর্ড করে ফেলবে ভারত। এই বিরল কাজটি সুষ্ঠুভাবে করার ক্ষেত্রে বিশ্বে চতুর্থ দেশ হতে চলেছে ভারত।

আগামী ১৮ দিন ধরে এই চন্দ্রযান চাঁদের দিকে এগিয়ে যাবে। এটা যত চাঁদের দিকে যাচ্ছে তত তার গতি কমবে। চাঁদের ১০০ কিমি বৃত্তের মধ্যে যাবে এটি। এবারে একটা অন্য প্রযুক্তি অবলম্বন করা হয়েছে। পৃথিবীর মহাকর্ষবলকেই প্রকারান্তরে কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশে যানটিকে ইনজেক্ট করার সময়েই সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হয়নি।

ডিবিটেক/বিএমটি